বিংশ শতাব্দীর  ট্যাঙ্গোর কাল

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় – বিংশ শতাব্দীর  ট্যাঙ্গোর কাল।যা “যুগ যুগব্যাপী নাচ” খন্ডের অন্তর্ভুক্ত।

বিংশ শতাব্দী ট্যাঙ্গোর কাল

 

bharatnatyam বিংশ শতাব্দীর  ট্যাঙ্গোর কাল

এমনকি ঊনবিংশ শতাব্দী শেষ হবার আগে থেকেই নাচের শিক্ষকগণ সামাজিক নাচের দূর্বলকরণ প্রক্রিয়া বিফল করার চেষ্টা করে। Minuet ও gavotte র মত ফিগারগুলি, এমনকি ইটালীতে pavanes এর মত কিছু waltz এর সনাতন সমরূপতা লাঘব করতে ও নির্ধারিত মানের quadrille, পরে polka, galoppe, rheinlander ও mazurk সহ সবাই স্ব স্ব ক্ষেত্র পরিত্যাগ করে।

এটা ছিল ভ্রান্ত কার্যপ্রণালী যা ঐতিহাসকি পরিস্থতির মিথ্যা পরিমাপের উপর ভিত্তি করেছিল। একটা সমাজ যেটা ক্রমে ক্রমে শেষ হয়ে যাচ্ছিল, অভিজ্ঞ জ্ঞানের সমাজে জীর্ণতায় অদৃশ্য হতে পারে নাই, রাজকীয় ইন্ধনে মাধুর্য থেকে উৎসাহিত হয়ে উঠে।

নিশ্চিত ভাবে কেউ অবাস্তব রকোকোর অলঙ্কারবহুল চিত্র প্রদর্শনী ও প্রায় ১৮৯০ সনের ধনীকের গিলিট করা প্রাসাদতুল্য আসবাবপত্রের চেয়ে এ ই সকল কৃত্রিম minuets ও gavottes এর অধিকতর ভাল কিছু খাপ খাওয়ান চিন্তা করতে পারবে না। তাবে তারা জনগণের উপযোগী হতে পারবে না বিশেষ করে যুবদের সঙ্গে। এই প্রজন্মের জন্য অভিজাত ও রাজদরবারের দিকে ধাবিত হতে ধনশীলতার ছাপ ছুড়ে ফেলে দিতে হয়নি।

শুধুমাত্র দুটা পথ খোলা ছিল। প্রথমটা অনুসরণ করত তারা যারা সমাজের নতুন বিন্যাস-অনুভব করতঃ যুব-সম্প্রাদায়, যুব-আন্দোলনে একত্রে যারা চিহ্নিত: সম্প্রদায়ের লোকজনের ও শিশুদের সম্প্রদায়গত নাচে ফিরে যেতে শতাব্দীর পালা বদলে স্ক্যান্ডিনিভিয়া ও ইংল্যান্ড সে পথে নেতৃত্ব দেয়।

নিজের গরজে সঠিক ভাবে যতক্ষণ এই পথ নির্দেশ করবে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করবে, যদিও সব ব্যাপারে না, এই সব মধ্যযুগীয় সংঘবদ্ধ নাচ যার জন্য খুব বেশী একঘেয়েমী হয়ে উঠে ও তাদের আত্মশক্তি প্রায়ই খুবই সূক্ষ্মভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে।

অন্যদিকে অ-নিবন্ধী “সমাজ” আমেরিকা থেকে নতুন নাচ গ্রহণ করেছে। প্রতীয়মান হয় এই নাচ বিদেশী তুমি থেকে এসেছে যাইহোক, বাস্তবে তারা ইউরোপ থেকেও বেশী বিশ্বস্ততার সঙ্গে সংরক্ষিত হয়েছে। সেই মূল-রাষ্ট্র যাতে নাচ একটা অন্তঃস্থ অবয়ে আধ্যাত্মিক স্পৃহা থেকে উদিত হয়েছে। আমেরিকান ক্রিয়োল (Creole) ও নিয়ো পদক্ষেপ গ্রহণের ভিতর পূর্ববর্তী শাতদীয় স্পেনীয় শ্লাতিক নাচের আত্মীকরণের মধ্যে প্রকৃত তুলনা করা যায়।

আমেরিকান নিগ্রো ও ক্রিয়োল নাচগুলির সর্বজনীন মূল্যায়নের আবিষ্কার কোন ভাবেই বিরক্তিকর বা নব্বই এর চাষাল সৃষ্টিকারী চালবাজদের আরোপিত বলা যাবে না। Sarabande ও Chacona তিনশত বৎসরের ও অধিক কাল পূর্বে নেয়া হয়েছে।

দুইশত বৎসর পূর্বে প্রায় ১৭৮৯ সনে মরিউডি সেন্ট মেরি ( Moreu de Saint-Mery) ছোট স্বতঃস্ফূর্ত বইতে ললিত ভাষায় ফরাসী ওয়েষ্ট ইন্ডিজের নাচ সম্বন্ধে লেখেন এবং ত্রিশ বৎসর পরে ১৮২০ সনে প্যারিসবাসী বিখ্যাত নাচের ওস্তাদ চালর্স ব্রাসিস (Charles Blasis) তার Traite তে একটা বিশেষ অধ্যায়ে স্প্যানীশ ও আমেরিকান নিগ্রো নাচের বর্ণনা দেন। যতক্ষণ ইউরোপীয় নাচের অঙ্গ ভঙ্গির ভান্ডার নিঃশেষিত না হয় ততক্ষণ আঠার ও উনিশ শতাব্দীতে এটাকে শুধু প্রশংসার স্বরে অবস্থান করতে হয়।

১৮৯০ সনের ব্রাজিলীয়ান maxixe ও ১৯০৩ সনের Cakewalk ঘুরা ও ভাসানর বিন্যাসকে ভেঙ্গে দেয় যেটা ইউরোপীয়ান ঘের-নাচগুলিতে আধিপত্য করত, আধুনিক ইউরোপ যা হারায়েছে তা পূরণ করার প্রচেষ্ট হিসাবে: আমাদের বংশধর অত্যান্ত দ্রুততার সঙ্গে মধ্য আমেরিকার সব নাচের উত্তরাধিকার গ্রহণ কারে প্রাচুর্য, ক্ষমতা ও সমস্ত দেহের বিভৎস বিকৃতির লক্ষ্যে অঙ্গ ভঙ্গির প্রকাশ স্পৃহা জাগ্রত করে।

কিছুদিন পর আমরা ১৯০০ সনে পাই one-step বা turkey trot, ১৯০০ সনে কিউবান কর্তৃক অনুপ্রাণিত habanera, তথাকথিত “আর্জেন্টাইন” ট্যাঙ্গোর (tango) সঙ্গে পরিমিত ক্রসিং ও নমনীয় পদক্ষেপ ও ভাসানর মাঝখানে নাটকীয় বিরতি এবং ১৯১২ সনে fox trot তার ফিগারের সম্পদময় ভান্ডার নিয়ে আসে।

যুদ্ধ শেষে আমরা এটার নবজাতকের দায়িত্ব নেই, shimmy যা পায়ের আঙ্গুলের অগ্রভাগ একত্রে ও গোড়ালী ছড়ান ইউরোপের চারণ কবি পূর্ব যুগের সমস্ত আইন-কানুনের বিরুদ্ধে; বিভৎসরূপে ছিন্নভিন্ন Charleston; ১৯২৬ সনে black bottom এর পার্শ্বে ঘুরাগুলি, পদাঘাত, ভাসান ভাবে স্কেটিং, জোড়াপায়ে লাফ ও লম্পঝম্পের প্রাণবন্ত সংমিশ্রেেণর সঙ্গে এবং শেষমেষ দোদুল্যমান rumba সমস্তকিছু সমপর্যায়ের অঙ্গ ভঙ্গির সংঙ্কচিত হয়ে আসে।

সবাই যৌনি কামাতুর উপাদানের উপর ভীষণ ভাবে ঝোঁক দেয় এবং সবকিছুকে সেই উজ্জ্বলাময় ভাল বদলান রিদিম চার- চার পরিমাপে ragtime রূপে শ্রেণীবিন্যাস করে। পদক্ষেপের একঘেয়েমী ও উনবিংশ শতাব্দীর শেষের অংশের মেলোডিতে কেউই কোন বিরাট বৈপরীত্য বা দ্বন্দ্ব কল্পনা করতে পারবে না।

 

google news logo
আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

 

তবে এই রক্ত-পরিবর্তনের ফল সন্তোষজনক হয় নাই। এটার সাফল্যে স্থায়ীত্বের প্রশ্নে কিছু সন্দেহ থেকে যায়। প্রথম যেটা স্থান পায় তা হল সকল নাচুয়ের অহঙ্কারী মনোভাব, যখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হয় কোন নাচ সম্বন্ধে যেমন দুই বা তিন বৎসর পূর্বে ফ্যাশন ছিল কেন সম্পূর্ণভাবে অচল, দ্বিতীয় স্থানে পরবর্তী শীত মৌসুমে কি নাচা হবে তার উদ্বিগ্নতা সম্বন্ধে এবং তৃতীয় স্থান পায় ইউরোপের মাটিতে এই সকল নাচ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হারায়ে যে যাতনা ভোগ করেছে।

প্রকৃতপক্ষে সুরুচি সম্পন্নভাবে সত্যিকার আবশ্যকীয় গতিধারায় রূপান্তর হওয়া অর্থেই সমস্ত আমদানীকৃত নাচ অবশ্যই গৃহীত হবে যদি তারা শিকড়াবদ্ধ ও বিস্তার চায়। কিন্তু এখনে আমরা শুধু একটা রূপান্তর দেখি না তবে বিষয়বস্তু হারানোর মধ্যে দিয়ে গঠনশৈলীর অনিবার্য বিচ্ছিন্নতা দেখি।

একজন ডাক্তার সকালে একটা জটিল আপারেশন করেন, একজন আইনজীবি বা বিচারক যিনি কিছু পূর্বেই একজন বিবাদীর অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেন, একজন ব্যবসায়ী যিনি সর্বক্ষণ লাভ- লোকসান নিয়ে উদ্বিগ্ন-এই সমস্ত লোকজনের খুব কমই সময় আছে তাদের পেশাগত পোশাক পরিবর্তন করে নাচের পোশাক পরে আবির্ভূত হতে পারে সত্যিকার বিরক্তিকর অঙ্গভঙ্গিতে নিগূঢ় অর্থে সৌন্দর্যমন্ডিত।

এইরূপে আমাদের উন্নত মানসম্পন্ন সভ্যতা এই বিদেশী নাচ থেকে তাদের ভিতরের সবটুকুই আহরণ করেছে যেটা হল আদিমতা, শক্তিমতা ও হর্ষোল্লাস। এই দ্রুত অধোগতিধারায় তারা তাদের স্বকীয় স্বাতন্ত্র হরায় ও নাচে তাদের আগ্রহের ক্ষমাত হারায় ও কয়েক বৎসর পর তারা পরিত্যাক্ত হয় অথবা একত্রে নিক্ষিপ্ত হয় নতুন অভিসন্ধিতে যেমনটা ইংরেজদের Yale, যেটা ১৯২৭ সনে Charleston.

fox trot ও tango র সংমিশ্রণে ছিল একটা স্বেচ্ছচারী বা আইনকানুন বহির্ভূত ফ্যাশন। ঔজ্জ্বল্য ও উৎকর্ষতা সত্ত্বেও শুধুমাত্র tango কুড়ি বৎসর ধরে কমতিহীন ভাবে সুপ্রিয়তা উপভোগ করেছে। নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে, এটা খাটি নিগ্রোনাচ না এবং এটার সর্বোৎকৃষ্ট গুণাবলী ঋণী অসাধারণ নাচের প্রতিভাদৃপ্ত স্পেনীয়াড়গণের কাছে যারা চারশত বৎসরব্যাপী ইউরোপীয় নাচে ফলপ্রসূ অবদান রেখেছে।

১৯১০ সনে যখন tango পুরান জগতে তার আবির্ভাব দেখায়, এটা নাচ উন্মত্ততা ছড়ায়, প্রায়ই একটা বিকার ভাবসাব যেটা সব নাসের ও শ্রেণীর লোকজনকে আক্রান্ত করে সেই একই সংক্রামক ব্যাধিতে। আপনি হয়ত আপনার মাথা নাড়াতে পারেন, বাচ্চাধরনের হাসতে পারেন, ব্যাঙ্গ করতে পারেন বা চলে যেতে পারেন, কিন্তু নাচের প্রम করে যে যান্ত্রিক যুগের মানুষ তার প্রয়োজনীয় হাতখড়িসহ তার মাথা ক্রমাগত কাজের খামিতে থাকে, উদিয়া তৎসত্ত্বেও আদিমদের মত নাচ করতে যতটুকু প্রয়োজন তা নিষপণ বা ক্যালকুলেট করতে থাকে।

তার জন্যও নাচ উচ্চ স্তরের অন্য তবে দ্রুত পৰিষ্যাক হওয়া বাহু দোলান, কাঁধনাড়ান ট্যাঙ্গো ও অন্যসব আমেরিকান নাচ দ্রুত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। সর্বজনীন সামাজিকীকরণ রীতি-নীতি বিশদ বিবরণ দেয়, সভ্যতা ঘনিষ্ঠ অঙ্গ ভঙ্গির দান।

কেউ হয়ত ভাবতে পারে আজকে নাচ আমদানীর চূড়ান্ত ফলাফল হতে পারে না নিগূঢ় আবেগের নবজীবনী শক্তিলাভ, তারচেয়ে সকল এবং ঐ সকল গুণাবলীর সংরক্ষণ করা উচিৎ যেটা অনিবার্য ভাবে ঘনিষ্ঠতা ও প্রশান্তির দিকে নিয়ে যায়। বিভৎস ও অতিরঞ্জিত অঙ্গ ভঙ্গি বাতিল হয়ে যায়।

প্রশান্ত ভাসান পুরান ঘুরাকে বদল করে নেয় এবং সংযত শড়ায়ে যাওয়া পদক্ষেপ পায়ের আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়ে করা পদক্ষেপকে প্রতিক্রিয়া করে। মূল two step এ কোয়ার্টার নোটে একটা ভঙ্গিমা থাকে যা তাড়াতাড়ি One-step কে পথ করে দেয়, পূর্ণ পরিমাপের জন্য একটা ভঙ্গিমা থাকে।

Tango র ভিতর পদক্ষেপের সংখ্যাও বিভিন্ন রকমের তার মধ্যে জোড়াল কতকগুলি বাদে অন্যসব কম গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নের পথে সবধরনের হ্রাস-বৃদ্ধি সত্ত্বেও, দরবারী ভাসান থেকে minuet এর pas menus পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সে প্রবণতা সবসময়ে কমতির দিকে যায় এবং সকল অঙ্গ ভঙ্গিকে সংযত করে। আমাদের আধুনিক বল-রুম (নাচঘর) নাচগুলি খুবই শান্ত ও সংযত প্রকৃতির ।

বিংশ শতাব্দী দেহ পুনরায় আবিষ্কার করেছে যখন ধ্বংসাবশেষ এত প্রিয়, অনুভূত ও সম্মানিত হয়ে আছে কেউই প্রকৃতপক্ষে সজাগ না যে আজকে কি ঘটছে তা বলার প্রয়োজন আছে। দুই হাজার বৎসরব্যাপী ঘুমন্ত অভিব্যক্তিপূর্ণ অনুকরণত্মাক নাচ জাগতে শুরু করে।

আমাদের প্রজন্ম দেখে না ব্যালে কি খুঁজে নাচের জগতের চটিজুতায়, ফিনফিনে স্কার্টে ও কৃত্রিম পদক্ষেপে। যেমন একদা নভের করেছিলেন তেমনি এটা চিৎকার করে উঠে প্রকৃতি ও ভালবাসার জন্য; পুনরায় এটা কামনা করে যেমন তিনি করেছেন, যদিও বাঁধা ধরা অঙ্গ ভঙ্গি বলদ করা খুবই শক্ত যেটা সত্যিকার ভাবে আত্মার জন্য কিছু না কিছু হবে।

যেমন সর্বদা নতুন ষ্টাইল শুরু হয় বড় ধরনের শিল্পীদের (পারফরমার) দিয়েই না তবে যে সব লোকজনের চিন্তা-চেতনা আছে তাদেরকে দিয়েও হয়; যেমন সর্বদা এটা পিছনের দিকে ফিরে অতীতের শুধু গঠন-শৈলী দেখে না দেখে এটার বহন করান সাহস আছে কিনা।

ইয়াডোরা ডাকন (Isadora Dundcan) যে নামটা আমরা উল্লেখ করেছি তা শুধুমাত্র একটাই নাম হবে যে নামের মধ্যে গ্রীকদের একটা মূর্তিতে তার জীবন স্পন্দিত হয় না। ভাস্কর্যের জটিলতার মধ্যে তিনি পুরান হেলেনীক নাচকে যাদুঘরের অবিচ্ছিন্ন নিদ্রা থেকে মুক্ত করেন।

যে প্রাচীন ভাস্কর্যের সৌন্দর্য জমাট নিরবতায় আচ্ছন্ন তা তিনি তার অন্তর্দৃষ্টি ও অনুভূতি দিয়ে অঙ্গ ভঙ্গি ও রিদিমের জমাট বরফ গলায়ে বের করে আনেন। ব্যালের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তিনি শুধু প্রথম ও একা না; তবে শতাব্দীর যাত্রাপথে তাঁর অনুকরণকারীদের মধ্যে সেখানে প্রায় খুবই স্বার্থপরতা বিরাজ করে এবং খুব অল্প সামর্থ থাকে।

এই সময়ের মধ্যে ব্যালের একটা বিরাট প্রশংসনীয় কৌশল এ প্রজন্মের নাচুয়ের কাছে আসে যারা স্বাধীনভাবে সুখী সচেতন শরীর গঠন করে। তারা যা নাচে তা হল অনেকগুলি প্রবৃত্তিসহজাত গুরুত্বপূর্ণ ও হাস্যোজ্জ্বল, রাষ্ট্রোচিত-আনন্দময়, পার্থিব ও স্বর্গীয়, সরল ও বিভৎস, নির্মম ও সুরুচিসম্পন্ন, মানবিক ও পৈশাচিক।

তারা রোমান্টিক প্রবণতার অনুভূতি থেকে ক্ল্যাসিক বা উচ্চাঙ্গের প্রেমের গঠনশৈলীতে পরিবর্তন করে। তারা প্রাচীন গ্রীস থেকে এবং আদিম মানুষের কাছ থেকে পাঠ নিয়েছেন ও প্রাচ্যের উচ্চ কৃষ্টি থেকে শিক্ষা গ্রহন করেছে কেমন করে আধ্যাত্মিক জগতকে প্রতিভাত করতে হয়, মন-মানসিকতা ও বিরাট অর্থনৈতিক সামর্থের সঙ্গে বিন্যাস করতে হয়। যাইহোক, একটা ব্যাপার হল যে তারা গ্রহন করতে সক্ষম নাঃ শক্তি ও প্রথার স্থায়ীত্ব;

সাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের ধারণ ক্ষমতা ও বাধ্যবাধকতা, সর্বজনীনতায় ব্যক্তির একাত্মতা বা রূপকতা। এবং এটাই তাদের মুক্তি। নতুন গঠনশৈলীর উপর সংঘাতের মধ্যপথে যেখানে অন্যান্য আর্ট অনিশ্চিয়তায় আঁকুপাঁকু করে, এটা হল তাদের পরম সৌভাগ্য যে, তাদের সুখ-দুঃখ প্রকাশ করতে পারে, আজ মানবজাতির ভয় ও আশা মহা-আনন্দের অবয়ে আছে।

 

বিংশ শতাব্দীর  ট্যাঙ্গোর কাল

 

তথাপি শুধুমাত্র আজ মানবজাতি না তবে সকল বংশের মানুষও সকল যুগে বর্তমান। সেই জন্য সেই আদি যাত্রাপথ থেকে মানুষের গোপন আকাঙ্খা প্রাণবন্ত অভিব্যক্তি দেয় মাধ্যাকর্ষণ শক্তির উপর বিজয়, সেই সমস্ত ওজন নিম্নগামী ও উৎপীড়ন করে দেহকে পরিবর্তিত করে আত্মায় বা দৈবশক্তিতে সৃষ্টিকে স্রষ্টার উচ্চাসনে আসীন করে, অনন্ত অসীমে বিলীন হয়ে যায় ঐ স্বর্গীয় সত্ত্বায় । “যে কেউ নাচ করার শক্তি জানে স্রষ্টার সঙ্গে বসবাস করে” ।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment