ছন্দবদ্ধ সঙ্গত

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় – ছন্দবদ্ধ সঙ্গত।যা “যুগ যুগব্যাপী নাচ” খন্ডের অন্তর্ভুক্ত।

ছন্দবদ্ধ সঙ্গত

 

ছন্দবদ্ধ সঙ্গত

 

কেই হয়ত ধারণা করতে পারে যে, নাচ ও মিউজিকের কিছু না কিছু ঐক্য প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে গাঁথা । তথাপি এখানে আমরা খুবই সাবধানতার সঙ্গে পুনরায় তার সাধারণত্ব অবশ্য স্বীকার করব। প্লেটো জীবজন্তুর ছন্দানুভূতি অস্বীকার করেছেন।

এটা অধিকাংশই সত্য তবে সম্পূর্ণ না। কোহেলার তার নাচুয়ে শিপাঞ্জীগুলির পদাঘাত পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, “তারা যা উৎপন্ন করে মনে হয় একটা ভিন্নধর্মী ছন্দ যার প্রতিটার সঙ্গে তারা পা রাখার প্রবণতা বাকী সবার সঙ্গে” । এবং পিচুয়েল লেয়শ্চ একটা গোরিলার বিবরণ দেন যেটা নাচের সময় বুক চাপড়ায় এবং কোলাহলপূর্ণ শিশু সুলভ পরিবেশের সঙ্গে হাত দিয়ে তালি দেয় সেই একই গোরিলাদের বুক চাপড়ান সমসাময়িক কালের চলচ্চিত্র “কংগোরিলা” তে চিত্রায়িত হয়েছে। নিঃসন্দেহে মানুষের রক্তে ছন্দের প্রতি প্রবণতা আছে, কিন্তু সে প্রথম জীব যে ছন্দকে নিয়ন্ত্রিত করে।

সে ছন্দকে নিয়ন্ত্রণ করতে কতদূর অগ্রসর হতে পারে তার নির্ভর করে তার প্রতিভা ও অনুরাগের গভীরতার মধ্যে। উদাহরণস্বরূপ বলতে হয় বাহুয়া ডায়কে প্রকৃত ছন্দ না থাকাই উচিৎ, লোয়ানগোতে বাফিয়োটি তাদের লাফ সুর ও সময় থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র রাখে এবং একই রিপোর্ট পাওয়া যায় আধুনিক গ্রীসের ট্রাটার মধ্যে।

এক্সিমোদের মধ্যে ছন্দবদ্ধ সঙ্গত গানের মত একরকম হয় না এটা হয়তো হতে পারে ৯/৮ বিপরীতে ৪/৮ অথবা অন্য কিছু এবং পূর্ব-আফ্রিকার ওয়াছিজিজু নাচে আরো আস্তে যাতে সঙ্গতকারীর টেম্পো বাড়তে থাকবে। হাতের কাছে অপর্যাপ্ত তথ্য নিয়ে এখন এর চেয়ে অধিক আর কিছু করা সম্ভব না।

নাচ ও মিউজিকের মধ্যের সম্পর্কের নির্দিষ্ট উপসংহার দেয়া আমাদের জন্য সম্ভব হবে তখন যখন আমাদের মিউজিক ও মনোবিজ্ঞানের উভয় বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণস্বরূপ তদন্তকারী মজুদ থাকবে। এরমধ্যে এটা প্রায় পরিস্ফুটিত যে, স্বাভাবিক ঐতিহ্যের মধ্যে প্রকৃত ঐক্য বিদ্যমান নাই ।

তথাপি সম্পূর্ণ নাচগুলি ছন্দময় মূল শিল্পউপাদানের জীবাণুকোষ থেকে উৎসারিত হতে পারে। অন্যথায় বৃটিশ নিউ গিনির ওরোকাইভা পাপুয়াদের নাচ সম্বন্ধে সুন্দর গল্প বেরিয়ে আসত না। একদা একজন বুড়ালোক নদীর পানির দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ জীবন্ত কিছু উপরে উঠে আসতে দেখে।

একটা কুমীর? না, এটা ছিল একটা গাছের গুঁড়ি যেটা ঢেউ এর সঙ্গে উপরে দুলতে থাকে তারপর অদৃশ্য হয়ে যায় একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। বুড়া লোকটা তার ঢোল নেয় এবং খুব হালকাভাবে ছন্দে তাল রাখে এবং যখন সে ঢোলে আঘাত করে নাচের একটা ছবি তার মনে দানা বেঁধেমূল সময়ে তাল দেয় পদাঘাত-কখন কখন কনুই ও হাঁটু সেই একই দায়িত্ব পালন করে।

দুর্বল পদাঘাতের শব্দের জন্য শরীরের কোন কোন অংশে হাত দিয়ে তীব্র শব্দ যোগ করতে হয়; এইরূপে উপর বাহু, পার্শ্ব দেশ, তলপেট, পাছা এবং উরুদ্বয় বাদ্যযন্ত্র হয়ে উঠে। সব সময় না, তবে নিশ্চিত যে, আরো উন্নত কৃষ্টির স্তরে অধিক পরিমানে কাপড়ের ব্যবহার শরীরের এই অংশসমূহে উৎপন্ন শব্দের আওয়াজ কম কার্যকর করে দেয়।

সব কৃষ্টির সব যুগে পদাঘাত ছাড়াও তাই শুধুমাত্র হাতের তালি দেয়া বিদ্যমান দেখা যায়। একটা সতর্কপূর্ণ শ্রেণীবিন্যাস এখানে পার্থক্য করে তাহল, ফাঁপা হাতের ও সোজা হাতের তালি একটা বৈপরীত্য পলেনেশিয়ান নারীদের বিশেষভাবে আকর্ষণীয় কিছু প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে সক্ষমকরে।

অধিকাংশ মৌলিক কৃষ্টি পদাঘাত ও তালি দেবার পর্যায়ে আছে। এই বিবৃতি দক্ষিণ-পূর্ব-এশিয়ার পিগমিগণ ও ভেড্ডাগণের সঙ্গত যন্ত্রসমূহ পরিস্কারভাবে অপ্রমাণ করে য়ে, তারা মালে থেকে পরবর্তীকালে আমদানীকারক হয়েছে। একটা দ্বিতীয় পর্যায়; যেটা আগায়ে আসে প্রটোলিথিক যুগের শেষে তথাকথিত পরবর্তী মূলকৃষ্টির মধ্য দিয়ে, “তীব্রতর করে” পদাঘাত এবং শরীরের আঘাত।

 

google news logo
আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

 

নাচুয়েগণ শুধুমাত্র তাদের শরীরে আঘাত করে না কিন্তু এপ্রনগুলিতে অথবা ভাজ করা চামড়ার পোষাক পরিচ্ছদে করে, তারা আঘাত করার জন্য দন্ড ব্যবহার করে এবং প্রায়ই একটা ভিত তৈরী করে নেয় যেটা খালি মাঠ থেকে অনেক উঁচু। তারা কখন কখন খটখট শব্দের অলঙ্কার তাদের শরীরে সংযুক্ত করে।

পদাঘাত এবং খটখট শব্দের শব্দ আরো অধিক কার্যকর হয় যখন খটখট শব্দের অলঙ্কার গুলি হাঁটুতে পায়ের গুলে অথবা গোড়ালীতে বাঁধা থাকে এবং যদি দন্ডকে পায়ের পরিবর্তে আঘাত করার জন্য ব্যবহার করা হয় তবে হয়ত খটখট শব্দের অলঙ্কার তার সঙ্গে জড়ায়ে দেয়া হয়। এমনকি এত পরিপক্ক মাইক্রোপলেনেশিয়ান কৃষ্টি তবুও অধিকাংশ অংশে হাততালির ব্যবহার এবং নাচের মধ্যে খুব সাধারণ শব্দ করে।

যখন পরবর্তী কৃষ্টির খাঁটি ছন্দময় শব্দ-কারক আরো অধিক উন্নত যন্ত্র দ্বারা পরিবর্তীত হয় (যা ঘনঘন নিমস্তরের কৃষ্টিকে প্রভাবান্বিত করে) যেমন পেটাঘড়ি, ঘন্টা, করতাল এবং এই রকম কিছু কিন্তু মূলভিত্তির কিছুই পরিবর্তীত হয় না।

বর্ধিত সংখ্যায় এইরূপ বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা যেমন হর্ষোল্লাস করার ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে কমা ছাড়া আর কিছুই করে না। অন্যদিকে প্রাচীন মিশর ও গ্রীসের মত ঝুমঝুমি হয়ত আঙ্গুল ঝাড়ায় ফিরায়ে নিতে পারে যদিও যে সমস্ত লোকজন ঝুমঝমি ব্যবহার করে না তাদের মধ্যে আমরা কখন আঙ্গুল ঝাড়া দেখি নাই । পূর্ববর্তী উপজাতীয় কৃষ্টিতে হাততালি ও পদাঘাতের আরো অধিক বিস্তৃতি আছে। ঝুমঝুমির কাঠি হাত দিয়ে আঘাত করার

বিকল্প, কিন্তু যেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, মাতৃতান্ত্রিক পূর্ববর্তী বপনকারীগণ ঢোল উদ্ভাবন করেছে। আমরা এ পর্যন্ত আঘাত করে বাজান ছন্দময় বাদ্যযন্ত্র সম্বন্ধে আলোচনা করেছি এবং এ কারণেই তা হর্ষোল্লাস প্রকৃতির। তারা নিয়ন্ত্রিত উচ্চ-শব্দ উৎপন্ন করে। তারা আদি যাত্রাপথ থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত নাচের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।

কিন্তু উন্নয়নের নির্দিষ্ট পর্যায়ের নাচ প্রদর্শনের জন্য নতুন উচ্চ-শব্দের বাজনারযন্ত্র আনা হয় যেটা নাচের এবং প্রসঙ্গক্রমে কৃষ্টির দ্বৈত-প্রকৃতি পরিস্কারভাবে প্রতিফলিত করে।

তারা হয়ত নিয়ন্ত্রিত উচ্চশব্দ উৎপন্ন করতে পারে কিন্তু তারচেয়েও তাদের আকৃতিতে যাদু করার শক্তি আছে আর যে সমস্ত পদার্থ দিয়ে তারা তৈরী তাতে অথবা যেভাবে তাদের বাজনা হয়—এবং তারা এই শক্তির যোগ ঘটায় নাচের মধ্যে তাদের ধর্মীয় লক্ষ্য হাসিল করার উদ্দেশ্যে। যেহেতু আমি এর মধ্যেই সাধারণ প্রকৃতির এই সকল ধর্মীয় লক্ষ্যের আলোচনা করেছি এখন আমি সোজাসুজি উদাহরণে অগ্রসর হব।

ঘষা বাজনা যন্ত্র : কোণাকুনি যথাযথ বস্তুদিয়ে ঘষায় এটা টিকটিক ও আঁচড়ের উৎপন্ন সশব্দ যেটা মিউজিকের ক্ষেত্রে আকর্ষণহীন” । সঠিকজ্ঞানে (বাজনার) যন্ত্র সময়ের তাল রাখে না, সশব্দের জন্য এটা প্রয়োজনীয় মূল্যায়নের অভাব সৃষ্টি করে।

সমস্ত বিশ্বজুড়ে এটা উর্বরাশক্তি বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয়, আমি আমার বইতে (Geist uand Werdern der Muisk Instrumente) তার বিশদ উদাহরণের তালিকাভুক্ত করেছি। শুধুমাত্র এই জ্ঞানে যে নাচের মধ্যে এর ব্যবহার অনুধাবন করা যাবে। উত্তর-আমেরিকার ইউটিগণ এটা ভাল্লুক নাচে, পশ্চিম-টেক্সাসের টনকওয়েগণ নারীদের নাচে, প্রেমাকর্ষণ নাচে, ম্যাট্টো এসো লোকজন কুরুরুতে বাজায়। চেনীগণ

বাজান দন্ড : “একটা দন্ডের মত বাঁশের কাঠি তার লম্বা অংশের বেশীর ভাগ অংশে অনেক ভাগে ফাঁড়া থাকে, বাজানদারের গায়ে কখন বাজান হয় কখন অন্য কাঠির বিপরীতে বাজান হয়”। আমরা এরই মধ্যে জীবনে যাদুমন্ত্রের সঙ্গে জড়িত দন্ডের কথা বলে ফেলেছি, (পাতা-৩০), এখানে এটা উল্লেখ করা উচিত হবে যে, ক্যালিফোর্ণিয়ান ইন্ডিয়ানদের মেয়েদের সূচনা নাচে দন্ড একটা বিশেষ ভূমিকা নেয় । ফালি ঢোল “একটা গাছের গুঁড়ির মাঝখানে ফাঁপা করা হয় এবং লম্বা ভাবে ভাগ করা হয়”। প্রথমে নাচুয়েগণ কাঠের

উপর পা দিয়ে লাথি মারে। পরবর্তী পর্যায়ে তারা দন্ড ব্যবহার করে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ঢোলের কাঠি। ফাঁপা ও চেড়ানারীর প্রতীক, লাথি মারা ও আঘাত করা যৌন ক্রিয়া। ক্যালিফোর্ণিয়া উত্তর-পূর্ব দিকে ফালি ঢোলের সীমান্ত চৌকি, এটা বিশেষ করে “দৈবশক্তির বাড়ী” তে ও শুধুমাত্র গোপন সমাজের নাচে বাজান হয় ।

বাঁশী অন্য যে কোন বাজান যন্ত্র থেকে বাঁশী লিঙ্গ ও উর্বরতার প্রতীক। এই যাদুবিদ্যার জন্য এটা অসংখ্য নাচের মধ্যে সঙ্গত হয়েছে যাতে উর্বরতা উৎপাদন বৃদ্ধির ধারণা পরিস্ফুটিত হয়- বিশেষ করে জীবজন্তু, ফসল ও ভালবাসার নাচে।

এখানে কে,টি প্রেয়াসের রিপোর্টের সঙ্গে পরিস্কার দ্বন্দ্বের আভাস পাওয়া যায় যে, সিয়েরা নেভেদার ক্যাজাবাদের মধ্যে বাঁশী হয়তবা বাজান হয় শুধু প্রফুল্লতায় কিন্তু কখন ধর্মীয় নাচে না, যেখানে উত্তর-পশ্চিম ব্রাজিলিয়ানগণের মধ্যে যারা ক্যাজাবাদের থেকে কোন বিশেষ দূরত্বে অবস্থান করে না তাদের ধর্মীয় প্রথাগত নাচে বিরাট বাঁশী সর্বদা ব্যবহৃত হয়।

বৈপরীত্যকে এইভাবে ধরা যেতে পারেঃ ব্রাজিলিয়ানগণ পুরাতন আঙ্গুলের খাঁচ ছাড়া উৎসবের বাঁশী ব্যবহার করে, কিন্তু ক্যাজাবাদের আছে পরবর্তীকালের আঙ্গুলের জন্য খাঁচ কাটা বাঁশী তারা নাচের জন্য সব সময় সুর সৃষ্টিতে সঙ্গত করে কিন্তু সেটা তারা প্রথামত নাচের সময় দূরে রাখে এই কারণে যে,ছন্দবদ্ধ সঙ্গত এইগুলি পরবর্তীকালে আমদানী করা হয়েছে। মধ্য-উপজাতীয় কৃষ্টি ছন্দময় বাজনার যন্ত্র সঠিক করা ও নাচে সুরেলা সঙ্গতের ভিত্তি স্থাপন ছাড়া স্পষ্টরূপে পুরাতন বাজনা যন্ত্রে কিছুই সংযুক্ত করে নাই ।

সম্ভবতঃ এই ধরনের সুরের দুই মূল উৎস আছে। প্রথমাটা হল বিভিন্ন বড় তালের বৈচিত্রময় স্বরের আনন্দ। সামোয়া, গাজেলী উপদ্বীপ ও জাভানী ম্যাডোরাতে পাঁচটা বেতের টিউব ক্রমঅংশে বিভক্ত করে সাজান, তাতে “বাঁকা মুগুরের ছাপ মারা থাকে এবং সংক্ষিপ্ত অষ্টিনাটো থিমে আনা হয়। মালাক্কার সিমাঙ্গের একই ব্যবস্থা যেটা মালে থেকে আমদানী করা হয়েছে।

পশ্চিম দিকের দ্বীপপুঞ্জের বেতের বৃন্তের বদলে কাঠের দন্ডে তুষের পিন্ড লাগান হয়। স্থানীয় বাসীন্দারা এইরূপ উৎপন্ন করে “বিভিন্ন বর্ণের উচ্চ শব্দ, শব্দের বিরাম নিয়ন্ত্রণের দ্বারা একরকম সুর গঠন করে উচ্চ-নিচের গোলকধাঁধায় আলো আঁধারির মধ্যে বহু সুরের গুচ্ছে যেটা সত্যই খুব জটিল”।

আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্য-বস্তু নিয়ে এই বৈশিষ্ট্যের ছাঁচ দেখতে পেলেও সেখানে মিউজিকের উপাদান সম্পূর্ণরূপে উন্নতি লাভ করে নাই। মেলেনেশিয়ান সলোমন দ্বীপপুঞ্জের একটা প্রথানুযায়ী উৎসব অনুষ্ঠানে বিরাট হাম্মান-দিস্তায় আগাছার শিকড় পদাঘাত করা হয় তালে তালে শুধু না উৎসবের সাজসজ্জায় নাচের ভঙ্গিমায়।

সেই একই পর্যায়ের জাভাবাসীদের চালের কুড়ার পিন্ড পদাঘাতকারীরাই পশ্চিম- ইন্দোনেশিয়ার লাউয়ের ঝুনঝুনি তথা এনগকলাঞ্জ, মাইক্রোনেশিয়ার ষ্টোন-মিউজিক যা কাওয়ার প্রস্তুতি পর্ব এবং দ্বীপপুঞ্জ খঁচিত সাগর অঞ্চল ও আফ্রিকায় জাইলোফোন।

দক্ষিণ-পূর্ব-এশিয়া প্রাথমিক ছন্দময় ও হর্ষোল্লাসপূর্ণ তালে তাল দেবার উৎকর্ষতা বৃদ্ধি ও সুর মূর্ছনায় উত্তরণের কাজ করে। শরীরে আঘাতকারী ও স্থুল, ভাঙ্গাচুরা শব্দ তৈরীর যাত্রা শুরুর সন্ধিক্ষণে এই উচ্চ ব্রঞ্জ-কৃষ্টি পেটাঘড়ি সৃষ্টি করে। কিন্তু উন্নয়ন এখানে থেমে থাকেনি। পেটাঘড়ি ঐক্য ও সমন্বয়ের এক অবদান রাখে এবং একক পেটাঘড়ির মিউজিকের মধ্যে সমস্ত অর্কেস্ট্রা জন্মলাভ করে।

বহুমুখী উন্নয়নের সঙ্গে বার্মা, শ্যাম, কম্বোডিয়া ও দ্বীপপুঞ্জ সমূহে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মধ্যে এবং পুনরায় প্রত্যেক দেশে বিভিন্ন মূল্যায়নেও অর্কেস্ট্র তথাপি সম্পূর্ণ অংশে অপূর্ব, প্রগাঢ় পুরান সময়ের তালাবদ্ধে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ঝুনঝুনি, ঢোলক, কাঠের ও ব্রঞ্জের আঘাতকারীদের ঐক্যবদ্ধ আকৃতিতে গৌরবমন্ডিত করেছে । সহজ কিন্তু স্থুল উত্তেজনাপূর্ণ একঘেঁয়েমি প্রলোভিত ঐশ্বর্য ও অদ্ভুত রং-বৈচিত্র্যের পথ করে দিয়েছে।

এই উন্নতি প্রশংসিত হতে পারে তখনই যখন কেউ দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার অপূর্ব কৃষ্টি সেই দৃষ্টি-ভঙ্গিতে অনুধাবন করতে পারবে যেস্থানে জাতি, উচ্চ মার্গের হর্ষোল্লাস, বিশ্ব-প্রকৃতি মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌছেছে।

এই পর্যায়ে এটা কৃষ্টি ও ধর্মের সাক্ষাৎ পায় ইন্ডিয়ায় ও চীনে, যা তার সব প্রবণতায় সুসংহত ও উন্নত, হর্ষোল্লসজনিত অভিজ্ঞতালব্ধ আধ্যাত্মিক গভীরতার লক্ষ্যে ধাবিত কিন্তু সেটা একই সময় এই অভিজ্ঞতায় জাগ্রত করে এক চিত্তাকর্ষক এবং সমুজ্জ্বল বেশভূষা সৃষ্টির প্রয়াস।

এটার জন্য তাৎক্ষণিক মনে হয় সব উচ্চ-কৃষ্টির মূল উপাদান ও বৈপরীত্য তাদের অদম্য প্রেরণার বিষয়বস্তু ও বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে পবিত্র জিনিস প্রকাশের জন্য রাখে।একটা সুরেলা বাদ্যযন্ত্রের মিউজিক তার পূর্ণ আস্থায় আশ্চর্যজনকভাবে নাচের সঙ্গে সঙ্গত হয়ে দেরীতে প্রকাশিত হয় : আমরা তা দেখতে পাই পরবর্তী উপজাতীয় কৃষক-কৃষ্টির মধ্যে যেটার পূর্ব সীমানা ইন্দোনেশিয়ার পুরান মালের বিশ্ব।

 

ছন্দবদ্ধ সঙ্গত

 

এটা অবশ্য বুঝা যায় আমরা উন্নয়নকে বিবেচনায় নিচ্ছি না যাকে হয়তবা ইন্দ্ৰিয়াতীত বলে বর্ণনা করা যাবে, এইরূপ ঐগুলি দক্ষিন পূর্ব-এশিয়ায় মালের বামন এবং ইন্ডিয়ান কতক উপজাতীয় বাদ্যযন্ত্র বিলাত বা ইউরোপ থেকে আমদানীকৃত। যেখানে সুর নাচে সঙ্গত হয়, ভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করতে লিঙ্গ পর্যবেক্ষণ করা হয় : পুরুষের নাচে হাওয়া বাদ্যযন্ত্র ব্যবহৃত হয় ও নারীদের নাচে তার বাদ্যযন্ত্র-প্রথমটা অধিক পরিমানে “বহিকেন্দ্রীক” দ্বিতীয়টা “অর্ন্তমুখী” ।

বাদ্যযন্ত্রে নাচের সুর বাদ্যযন্ত্রের ছন্দবদ্ধ সঙ্গত থেকে উন্নীত হয়নি কিন্তু তারচেয়ে দ্বিতীয় উৎসমূল নাচের গানকে বাদ্যযন্ত্র কেন্দ্রীক করা হয়েছে। সব সম্ভাবনায় গানগুলিকে প্রথম বাদ্যযন্ত্রীকরণ করা হয়েছে ঐ গানগুলিকে যেগুলির কথা হারায়ে গেছে।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment