ক্ল্যাসিক যুগ গ্রীস

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় – ক্ল্যাসিক যুগ গ্রীস।যা “যুগ যুগব্যাপী নাচ” খন্ডের অন্তর্ভুক্ত।

ক্ল্যাসিক যুগ গ্রীস

 

ক্ল্যাসিক যুগ গ্রীস

 

সকল স্থানের ও বিভিন্ন যুগের আবশ্যিকভাবে সংগ্রীহিত ছড়ান ছিটান উপদানগুলি কঠোর পরিশ্রমে সুগঠিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ ইউরোপের প্রাচীনত্বের এক জাঁকজমকশীল আকৃতি সামঞ্জস্যপূর্ণ চিত্রে চিত্রিত। প্রত্যান্ত বংশধরের নাচের পোষাক পরিচ্ছদ সাধারণভাবে পরিপক্ক কৃষ্টি দ্বারা অন্ধকার পশ্চাতভূমিতে নির্বাসিত হয়েও তা এখানে আদিম লোকজনের মত একই আন্তরিকতায় ও রক্ষণশীল গাঢ় আগ্রহে পূর্ববর্তী শক্তিতে সংরক্ষিত হয়ে পরবর্তী সহস্রাব্দে যে সমস্ত উপাদান উৎপন্ন হয়েছে তাদের সঙ্গে আগায়ে এসে পাশাপাশি স্বাধীন সচ্ছন্দে সম্প্রসারিত হয়ে আছে।

নাচের অগ্রগতি সহঅবস্থানের মধ্য দিয়ে সুস্পষ্ট রূপে আকৃতি পেয়েছে। আমরা সেই একই রকম চিত্র দেখতে পাই যে, লোকজন ধ্যানমগ্ন হয়ে তাদের পূর্বপুরুষদের মত পবিত্র বস্তুর চারদিকে ঘুরে, জীবজন্তুর চাল-চলন ও কর্মকান্ড অনুকৃত করে, আত্মবিলোপ করে, মুখাশের মধ্যে ভরপ্রাপ্ত হয় এবং অলৌকিক ক্ষমতা প্রাপ্ত হয় এবং দেবত্বআরোপিত হয় উন্মত্ত, হর্ষোল্লাসজনক নাচের মধ্যে দিয়ে।

সেই একই লোকজন স্বপ্নের মধ্যে পূর্ব-পুরুষদের ভাগ্য পারাপারে পুনরায় অভিজ্ঞতা পায় এবং তা জনপ্রিয় নাটকে প্রসারিত করার মধ্যে দিয়ে বিশ্ব-নাটকের মধ্যে প্রসারিত করে-ঘেরে নাচের মধ্য দিয়ে সামাজিক সম্পর্কের স্বীকৃতি পায়, একক নাচের পদাঘাতে ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের বিনম্র আনুগত্যে, সহায়ক বিজ্ঞতায়, ভাবগম্ভীর ও অদ্ভুত, অন্তরঙ্গ ও তামাসার মধ্যে, বন্ধনহীন সীমাবদ্ধতার মধ্য থেকে সবকিছু মানবিক ও অতিমানবিক হয়ে উঠে।

সংঘবদ্ধ নাচ প্রথম স্থান নেয়। হোমারের বর্ণনায় আছে বীরত্বপূর্ণ কালে আনন্দ উল্লাসপূর্ণ যুবকদের সংঘবদ্ধ নাচ এককভাবে অথবা যুবতীদের সঙ্গে, বিবাহউৎসবে, দ্রাক্ষাসংগ্রহকালে অথবা শুধুমাত্র তাদের যৌবন-উচ্ছাসের ভাব প্রকাশের জন্য অনুষ্ঠিত হত “করিয়া” গ্রীকগণ মনে করে অবশ্যই “কারা” Chara আনন্দ থেকে এসেছে।

“তাছাড়াও ঐশ্বর্যময় খঞ্জ দেবতা একটা নাচের স্থান আবিস্কার করেন, যেটা এক কালের প্রসস্থ কনোসস, ডীডেলাস কঠোর শ্রমে চমৎকার বেণী দিয়ে অ্যারিয়াডনীর জন্য তৈরী করেন। যেখানে যুবকেরা নাচতো এবং কুমারী গণ মূল্যবান প্রেমনিবেদন করত, তাদের হাত অপর জনের কব্জীতে থাকত।

কুমারী গণ সুন্দর পোষাক পরিধান করত এবং যুবকগণের সুন্দর বুনানো ডাবলেটস তেলের সঙ্গে ক্ষীণভাবে জ্বল জ্বল করত। কুমারীদের সুন্দর মালা যুবকদের রূপালী বলড্রিক্সে (বুকের উপর আড়াআড়িভাবে রাখা বেল্টে ঝোলান সোনার চিহ্ন বিশেষ থাকত।

এখন তারা চারদিকে ঘুরে নিপূণ পদক্ষেপে হালকাভাবে অতিক্রম করবে যেমন কুম্ভকার যখন তার চাকা ঘুরবে কিনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার পাশে বসে যেটা তার দুইহাতের মধ্যে ফিট করে থাকে। শীঘ্রই তারা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হতে লাইনে দৌড়াবে।

এক বিরাট দল আনন্দ উচ্ছাসে সুন্দর নাচের চারপাশে ঘিরে দাঁড়ায় এবং তাদের মধ্যে একজন স্বর্গীয় কবি তার “লায়ার” সহযোগে মিউজিক রচনা করে তাদের মধ্য দিয়ে মিজার (গম্ভীর ধরনের নাচ) লক্ষ্য করে দুইজন ট্রাম্বুরিন বাদক প্রচন্ড গতিতে ঘুরতে থাকে।” (ইলিয়াড XVIII ৫৯০-৬০৬)

এইরূপে হিফেইটস এচিলির নিয়তির জন্য ব্রোঞ্জ-ঢালে অঙ্কিত করেনঃ হোমারের হেলেনীজগণ প্রাচীন ঘের-নাচ নাচে যার থেকে নাচে লাইন করা উন্নত হয় যাতে একে অপরকে দেখতে পারে; যারা মধ্যে থাকে তারা সমারসাল্টসে ঘুরছে-সেটাই গ্রীকশব্দ Kybisteteres অর্থ করে-এবং নাচের নেতা নেতৃত্বদেয় গানে এবং লায়ারের সঙ্গে।

গ্রীকগণ অবশ্যই এই ধরনের ঘের-নাচ তাদের আসল জন্মভূমি থেকে নিয়ে এসেছে। কিন্তু বিশেষ ধাঁচের নাচের জন্য বাস্তুভিটা ত্যাগকারীগণ ক্রীট ও মাইসিনিয়ান কৃষ্টির কাছে কৃতজ্ঞ যেটা তারা নতুন দেশে দেখতে পায় এবং বিজিত। ক্রীটের ভাস্কর্য আমাদেরকে বিবরণ দেয় লায়ার বাদকের চারদিক ঘিরে নাচ, ধর্মীয়-প্রথাসিদ্ধ সম্পর্কীত যুগল-নাচ এবং সমস্ত লোক-জনের সামনে মহিলাদের বিরাট দলবদ্ধ ঘনিষ্ঠ দোলান নাচের অনুষ্ঠান।

ক্রীটবাসীগণ ব্যতিক্রমধর্মী শিল্পীরূপে সর্বদা গ্রীকদের দ্বারা অত্যন্ত প্রশংসিত হত এবং নাচে তাদের ওস্তাদ বলে স্বীকার করত এবং আধুনিক যুগে গ্রীকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নাচুয়ে এখনও এইসকল লোকদের বংশধরদের (ক্রীটবাসী) মধ্য থেকে আসে। থিসিউসের সেই গল্প, যাতে আছে তিনি ক্রীট থেকে এথেন্সে ফিরে আসেন সঙ্গে মুক্তকরা যুবক-যুবতীগণ, ডেলস দ্বীপে সারসপাখির ধাপে ঘের-নাচ নাচেন এবং স্পষ্ট করে ক্রীটের দিকে লক্ষ্য করে এই নাচ বহুদিন ধরে দ্বীপে সংরক্ষিত ছিল।

এটাও চীনে লক্ষ্যকরা যায়। প্রাচীন চীনে যুবরাজের মৃত্যুতে মানুষ উৎসর্গ করা হত। যখন, প্রায় ৫০০ খৃষ্টপূর্বে উত্তর রাজা হো-লুর এক মেয়ে আত্মহত্যা করলে রাজা তাকে খুব জাঁকজমক করে কবর দেন এবং তার সমাধিস্তয়ের নিচ দিয়ে সুরঙ্গ তৈরী করেন। তারপর সাদা সারসের নাচ অনুষ্ঠানের হুকুম দেন এবং বালক বালিকাদের নাচুয়েদের সঙ্গে সুরঙ্গ পথে সমাধিস্তম্ভে যেতে প্রলুবদ্ধ করেন।

পিছন থেকে সুরঙ্গের পথ রুদ্ধ করে দেয়া হয়। মৃতের প্রতি উৎসর্গ করা হয় বালক- বালিকাদের, সুরঙ্গপথ এবং সারস পাখির নাচ-কি এক অদ্ভুত সমান্তরাল প্রথা! চীনাদের সারস পাখির নাচ হেলেনীকদের ঘের- নাচের মত এবং এটা উদ্ভিদবর্ধন আবর্ত প্রক্রিয়ার প্রথায় আবদ্ধ যা থেকে বৃষ্টি, উর্বরতা এবং পুনরুদ্ভব পাওয়া সম্ভব। আমরা কি এ থেকে কোন প্রাচীন যোগসূত্রের সন্দেহ পোষণ করতে পারি ?

আমরা আবার গ্রীকদের ক্রীট দেশীয় নাচে ফিরে যাই। ডোরিয়ানগণই প্রথম যারা ক্রীটের ভূখন্ডে প্রথমে আসে এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করে। যাইহোক, শুধুমাত্র সান্নিধি যথেষ্ট হতে পারে না যদি সেখানে কোন একটা নির্দেশক উপাদান না থাকে ঃ ডোরিয়ানগণ ব্যক্তিস্বাধীনতার উপরে সামাজিক বিধি-বিধান এবং সংগঠনকে অধিক গুরুত্ব দিত প্রয়োজনের খাতিরে একক নাচের দিক থেকে সংঘবদ্ধ নাচের দিকে দৃঢ় সংশ্লিষ্ট হয়ে পরে। ক্রীটদেশীয় আঙ্গিকে অস্ত্রনাচ স্পার্টাবাসীরা বিশেষ আগ্রহে চর্চা করে যেটা গ্রীসে বলা হত (লাল পোষাক পড়ে), তারা সেটা

পাঁচ বৎসর বয়স থেকে প্রশিক্ষণ নিত। আর্টের মধ্যে যেগুলি বিভিন্ন অর্থে প্রকাশিত এই নাচের মধ্যে তা একত্রে উপস্থাপিত। বাহ্যিকভাবে এটা সঠিক অনুকরণাত্মক নাচের পর্যায়ভুক্ত : জিমন্যাসটিক ব্যায়াম থেকে একটা যথার্থ আত্মরক্ষা ও আক্রমণ করা (অস্ত্র-নাচে) পার্থক্য করে শুধুমাত্র শিল্পীসুলভ অঙ্গভঙ্গি, ছন্দ এবং বাজনার সঙ্গত (সংক্ষিপ্ত, সমানসমান সংখ্যার অঙ্ক)।

এটাকে সত্যিকার যুদ্ধবিগ্রহের প্রস্তুতি বলে বিবেচনা করা হত। প্রায় প্রায় সৌজন্যমূলক পর্যবেক্ষণে দেখা যেত যে, এইরূপ এবং এসকল মানুষ অস্ত্র-নাচের নৈপূণ্যের মধ্যে সামরিক সাফল্য অর্জন করত এবং “সক্রেটিস” এর বিখ্যাত উক্তি থেকে এর সম্পর্কে বুঝান যায় শ্রেষ্ঠ নাচুয়ে সর্বদাই শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা।

আদিম মানুষের মধ্যে নাচা ও যুদ্ধ করাকে একই স্তরে একনিষ্ঠভাবে স্থান দেবার বৈশিষ্ঠ্য বিরাজ করত এবং লঘু কিন্তু দ্রুত পদক্ষেপ লড়াইয়ের দিকে ধাবিত করে যেটা আমরা স্থানীয় বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘনঘন লক্ষ্য করেছি যার একই বিপরীত অংশ আছে এমবেটেরিয়ার মধ্যে, এনাপেষ্টটিক নাচের নিয়মিত অগ্রগতির সঙ্গে স্পার্টানগণ বিবাদে জড়ায়ে পরে। লড়াইয়ের নেতৃত্বদানকারী নাচেরও নেতা এবং একই নামে পরিচিত।

 

google news logo
আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

 

পায়ারইচি অবশ্যম্ভাবী রূপে পরবর্তীতে মূখাভিনয় হয়ে উঠে এবং প্রদর্শনী নাচে অধঃপতিত হয় এবং তার পুরান নাম তাৎপর্য হারায়। কিন্তু এই শারীরিক কসরৎ বা জিমন্যাসৃটিক পর্যায় কোন মৌলিক বিষয় না। যাদুতন্ত্রের স্তর এটার খুবই ঘনিষ্ঠ এবং স্পষ্টরূপে চিহ্নিত করা যায়। একটা ক্রীট-গ্রীসের গল্পে বলে যে, জিউসের বাচ্চা ক্রোনস দ্বারা বন্দী হত না যদি না অস্ত্রেসজ্জিত পুরুষেরা নবজাতকের চারদিকে ঘিরে নাচে ঢালকে তাদের তলোয়াড় দিয়ে আঘাত করত।

দূর থেকে দৈবশক্তির আতঙ্কগ্রস্থ হওয়া একটা মূল শিল্পউপাদান যেটা এখনও পরবর্তী কালের ইউরোপের তলোয়াড় নাচে সংশ্লিষ্ট এখানে তা অভ্রান্ত। এটা সম্পূর্ণ স্পষ্ট যে, শুধুমাত্র লাড়াই থেকে না ব্রঞ্জদিয়ে ব্রঞ্জ আঘাত করার (এপট্রপিক) ভাঙ্গাভাঙ্গা শব্দ থেকে ভয় উৎপত্তি হয় এবং আস্ত্রনাচের সঙ্ঘাত মৃতদেহের উপরেও শব্দ করে; আমরা আদিম মানুষের কাল থেকে এই যাদুতান্ত্রিক প্রথার সঙ্গে পরিচিত।

পরবর্তী প্রাচীনকালে পায়ারইচি বিশেষ করে স্পার্টায় পেশাদার নাচুয়ের প্রদর্শনী নাচ ছিল, এমনকি মহিলাগণও নাচত। যাদুতন্ত্র, জিমন্যাসটিক এবং অনুকরণাত্মক-এই সকল বিশেষত্ব খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।

পায়ারইচির সঙ্গে অন্য তিনটা সংঘবদ্ধ নাচ প্রবিষ্ট হয়েছে— তাদের এনেছে বলা হয় ক্রীটের থলেটস-পেইয়ানস আরোগ্যাকারী দেবত, এপোলোর দিকে যেটা মৌলিকভাবে রোগ ও মৃত্যুর বিরুদ্ধে যাদুতান্ত্রিক নাচ; হাইপরচিমাটা ও এপোলোর প্রতি উৎসর্গীকৃত যাতে পৌরাণিক বিষয়বস্তুর ক্রিয়াকর্ম দেহভঙ্গি ও ছন্দে বাস্তবায়িত হয় এবং (জাইমনোপাইডিআই) ন্যাংটা বালকদের দ্বারা অনুষ্ঠান করান হত যার নাচের গঠনশৈলী মল্লযুদ্ধের গতিধারাকে ভিত্তি করে করা হত ।

এই সকল দেবতাদের সম্মানে ভাবগম্ভীর রূপে অনুষ্ঠিত ভক্তিময় এবং পবিত্র বৈশিষ্ট্যের ঘের-নাচ (এমিমেলীয়) নাচরে ক্ষেত্রে অনাধিকারভাবে চেপে বসেছে, যা প্লেটো উত্তেজক ও যুদ্ধের মত বলে তীব্রভাবে পার্থক্য করেন। তারচেয়ে অবাক হবার আর কিছু নাই যে emmmileia প্রধানত মহিলাদের মধ্যে উন্নতি লাভ করেছে, এটা ঘনিষ্ঠ ও প্রসারিত নাচের মধ্যে পুরান পার্থক্য।

এই নাচের গঠনশৈলীগুলি হল ধর্মীয়স্থানের দিকে উৎসবময় শোভাযাত্রা করা এবং দোলায়মা গোলকে বেদীকে ঘিরে ঘুরা। তারা বিস্ময়রূপে অবিকৃতভাবে সংরক্ষিত হয়ে, চমৎকারভাবে আমাদের কাছে এসেছে যাতে কুমারী গণ করুণার মত হাতে হাত রেখে দেবী পূজা করে গানের মত স্তবের শব্দে। এখানে আমাদের আছে যাদুটোনা সম্পূর্ণভাবে পূজায় মগ্ন ভক্তিপূর্ণ উৎসবের মধ্য দিয়ে উন্নত।

দলবদ্ধ নাচ সংকীর্ণ অর্থে দৈব উপাসনা থেকে পরস্পর জনপ্রিয় অতিজাগতিক শ্রদ্ধাভক্তির পথ বেয়ে পারিবারিক জীবনের রাজ্যে প্রবেশ করে ঃ মেয়েলী সংস্কারে শিশু জন্মলাভের দশম রাত্রিতে, বয়ঃপ্রাপ্তির উৎসব অনুষ্ঠানে, বিবাহে, বাসর ঘরের দরজায় কুমারী মেয়েদের ব্যাঙ্গাত্মক দলবদ্ধ ঐক্যতানে এবং কবরের দিকে শোক শোভাযাত্রায় বিলাপের মধ্যে তা পরিস্ফুটিত ।

যদি আমরা প্রাচীন হেলেনীক দলবদ্ধ নাচের পরিস্কার চিন্তাধারার আকৃতিগত রূপ পেতে ইচ্ছাপোষণ করি আমাদেরকে অবশ্যই এথেন্সের কাছে মিগেরার ইষ্টার সমবারের এখনও দেখতে পাওয়া নাচকে উল্লেখ করতে হবে। শুধুমাত্র ভক্তদের একাগ্রতা দিয়ে তারা অনুষ্ঠান করে অথবা তারচেয়ে উৎসব পালন করে খুব পুরান ঐতিহ্যের দিকে লক্ষ্য করে, কিন্তু প্রাচীন কালের দূষ্প্রাপ্য দ্রব্যের স্মৃতিচিহ্নের সিরিজের মধ্যে অদ্ভুত বৈচিত্রময় আকৃতি ও অবস্থান বর্ণিত আছে।

এই সকল ট্রটা নারীগণ ঘনিষ্ঠ হয়ে হাঁটে এবং একে অপরকে আড়াআড়ি ভাবে ধরে ঃ প্রথমজন দ্বিতীয়জনের বুকের উপর দিয়ে তৃতীয় জনের হাত ধরে, দ্বিতীয়জন তৃতীয় জনের বুকের উপর দিয়ে চতুর্থজনের হাত ধরে এবং এই রকম চলে।

এই শক্ত করে শিকল ধরা পুরুষ বা নারী নাচের নেতার নেতৃত্বে মুখাবয়ব কোন রকম বিকৃতি না করে, আস্তে এবং শান্তভাবে সামনে পিছনে দোলছাড়া বাম পা ডান পাকে ক্রস করে, ডান ধাপ পাশে ডানদিকে এবং বাম পা এটার সঙ্গে উপরে উঠে। তারপর ডান ধাপ পিছনে তির্যক করে ডানদিকে, বাম পিছনে দিয়ে এটাকে ক্রস করে এবং ডান পুনরায় তির্যকভাবে সামনে ডানে চলে। শিকলের শেষের চারজন নারী নাচে না; তারা একত্রে অথবা দুইজন একসঙ্গে গান পায় ট্রফি ও এন্ট্রিষ্ট্রফির (গ্রীক ঘুরা) সময়।

যদি আমরা Kalokagathia (সম্বন্বয়) ও emmileia র sophrosyne মধ্যে তীব্র বৈপরীত্য অনুসন্ধান করলে আমরা এটা দেখতে পাব যে, ডায়নোসাসের ধর্মীয় প্রথায় এবং অন্যান্য দেব-দেবী কে গ্রীকগণ পৃথিবী ও উদ্ভিদ বর্ধন ক্ষমতায় নির্দিষ্ট করেছে। স্বকীয় হর্ষোল্লাসের স্বাধীনতা এখানে এত তীব্র যে, যা কোন দিন কোন আদিম মানুষের মধ্যে ছিল না।

পবিত্র উন্মাদনা গ্রীক নারীদের উপর অবস্থান নেয়। দৈবশব্দের আহ্বানে তারা তাদের ঘরছাড়ে, বন্যতায় তুষারাবৃত পর্বত শিখরে বিরামহীনভাবে আরোহণ করে এবং আদিম উন্মাদনায় কয়েক দিন-রাত ধরে বাতুলের মত বকবক করতে থাকে। তারা হল রণচন্ডী “পাগলী”। শতশত পাত্রে ও উঁচু বেদীতে তারা চিহ্নিত। দেখা যায় পদাঘাত, চক্কর এবং পীড়িতদের দেবতার মত উড্ডয়ন এবং দর্শকগণ আগাগোড়া হর্ষোল্লাসময় ।

নাচের পূর্ণ অভিজ্ঞতা পায় মানুষের রক্ত-উন্মাদনায় পশুতে পরিণত হওয়ার মধ্যে, যে ছিন্নভিন্ন ছাগশাবককে ডিসকাসের মত শূন্যে নিক্ষেপ করে, মহানন্দের মধ্যে রূপান্তরিত দরবেশ যিনি আর্শিবাদপুষ্ট সংঘবদ্ধ নাচের মধ্যে পার্থিব জগৎ ভুলে যায় এবং স্রষ্ট্রার সান্নিধ্য পায় (প্লেট-১২)।

এই বন্য কর্মকান্ড থেকে শিল্পসম্মত গঠনশৈলী ধীরে ধীরে বিকাশিত হতে থাকে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে নাটক হয়। লেখকগণ উন্মোচিত করেন যে, মার্জিত রণচন্ডী Bacchanaliaর প্রস্তুতির জন্য এথেন্স ও ডেলফির আইন-কানুন অনুসারে নাচ চর্চা পরিচালিত করে এবং পাত্রের চিত্রকরগণ দেখাতে অনুরক্ত ছিলেন কেমন করে ডায়নোসাস ধর্মীয় পদ্ধতির পার্থক্যকরণের চিহ্নিতনারীগণ নাচের নির্দেশনা পায়।

ডায়োনোসাস ধর্মীয় পদ্ধতি এটার মিল খুঁজে পায় দ্রাক্ষাসংগ্রহের উৎসবে এবং পুরুষদের তাতে অংশগ্রহণে অনুমতি দেয়। স্যাটারের (Satyrs অর্ধেক ছাগ অর্ধেক মানুষ আকৃতির বনদেবতা) মত ছদ্মবেশ এবং স্লিনেইর Sileni সঙ্গে লম্বাদাঁড়ি, লেজ এবং পুরুষাঙ্গ এবং ওবোর তীক্ষ্ণশব্দ ও উত্তেজক খটখটির সঙ্গতে তারা পাত্রের অঙ্কিত চিত্রে পরিস্ফূটিত, হর্ষোল্লাসজনক নাচে ডুবে গিয়ে সম্পূর্ণ রূপে দেবতার প্রতি বশবর্তী হয়ে পরে অথবা প্রতিরোধকারী রণচন্ডীদের চারদিকে কামাতুর লঘু-দ্রুত পদক্ষেপে ঘুরে।

এখানে আমরা দুইদিকের মধ্য পথে দাঁড়ায়ে আছি, প্রস্তর যুগের কৃষ্টির মুখোশ নাচ ও রাজকীয় রোমের অসংযত ব্যাচানালিয়া যার থেকে অখ্যাত লুপারসেলিয়ার পথ, যে পথ নেমেগেছে আধুনিক ভ্রম্যমান আনন্দমেলায়। যে নাম এখনও ঐতিহ্যময় পূর্ব-পুরুষের ইঙ্গিত দেয়।

একটা carrus navalis এর জন্য, একটা চাকার জাহাজ ডিথাইরাম্বর নাচের নেতা এবং দলবল বহন করতে গ্রীসে ব্যবহার হত, যখন সে পুনরায় সৃজন করত ডায়নোসাসের জীবন, মৃত্যু এবং প্রত্যাবর্তন এবং এটা ছিল একটা carrus navalis যার উপর ৫৩৪ খৃপূঃ নাচুয়ে ও গায়ক থেপিস, তার দলবল সহ এথেন্সে পিসিসট্রেটাসের ডাকের জবাব দেয় এবং গানের মধ্যে ছাগলের মুখোশ নাচে সৃষ্টি করে “ছাগলের গান” ট্রাগোডিয়া ।

এইসকল ব্যাপার সম্পূর্ণ পরিস্কার না। এটা নিশ্চিত যে, যে সংঘবদ্ধ নাচ নিয়ে এখানে আমরা পর্যালোচনা করছি যথা ডিথাইরাম্ব, ৬ষ্ঠ শতাব্দীর প্রথম দিক নির্দেশ করে। মূলতঃ এটা ছিল ডায়ানোসাসের উপাসনার নিমিত্তে পঞ্চাশজন মাল্যশোভিত নাচুয়ের ঘের-নাচ, আরও অন্য দেবতাদের অনুচরবর্গসহ। এটা emmibia র চেয়ে আরো স্পষ্ট প্রাণবন্ত নাচ, এটার বিশেষনাম tyrbasia যার অর্থ প্রচন্ড অঙ্গভঙ্গি করা।

প্রথম দিক্ থেকেই এই নাচগুলিনাটকীয় মনে হয়েছে ঃ কেন্দ্রস্থলে নাচের নেতা দেবতা ডায়নোসাস স্বরূপ; যে পৃথিবীর উদ্ভিদ অঙ্কুরায়নে বাঁচে, কষ্টসহ্যকরে, পিড়ীত হয় এবং মরে যায় ও একটা নির্দিষ্ট মুহুর্তে নতুনভাবে জেগে উঠে যেমন মিশরে অসিরিস বা এট্রিক্স-এডনিস্ এশিয়ামাইনরে, তাকে ঘিরে রাখা পঞ্চাশজন সংঘবদ্ধ নাচুয়ে তার ভাগ্যবরণ করে, পুনরায় উল্লেখ করে, কষ্টসহ্য করে ও আনন্দ-উল্লাস করে তার সঙ্গে । সার্দিনিয়াতে এই ডিথাইরাম্বের রিলিক সংরক্ষিত আছে।

নিশ্চিত ভাবে বলা যায় নাটকের সংঘবদ্ধ নাচ গোল আকৃতির ছিল না। গঠনশৈলীর দিক্ থেকে পাশাপাশি সারিবদ্ধ হত ঃ শোকাভূত সমবেত দলের ও স্যাটাইরিক নাটকের আইন অনুসারে পাঁচজন গায়ক নাচুয়ে তিন সারিতে এবং কমেডির সমবেত দল ছয়জনের চার সারি হত ।

সুতরাং এটা পরিস্কার বুঝা যায় যে, প্রদর্শনীর নাচে উত্তরণে প্রয়োজনীয়ভাবে অস্পষ্ট গোল-আকৃতি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সমবেতদল মঞ্চের সম্মুখ ভাবে অর্ধগোলকে অবস্থান নিত যার উপর অর্ধেক নাটক প্রায়ই সংগঠিত হত। নাটকীয় প্রাসঙ্গিক উপখ্যান ও যেমন তেমন কর্মকান্ডের অংশবিশেষের মধ্যে গীতিকাব্যের দুই অংকের মধ্যবর্তী বিরামকালীন সময়ে অভিনয়ের সঙ্গে গান গাওয়া ও নাচ করার একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল ।

তারমধ্যে নাচ যতটুকু নাটকীয় সম্ভাবনা ধারণ করতে পারবে শুধুমাত্র ততটুকু বড় অংশ নাটকে গ্রহণ সম্ভব হবে। গ্রীকগণ তাদের নাচ সম্বন্ধে যে সমস্ত লিখেছে তা থেকে আমরা এটা সত্য বলে জানি। এটা কেমন করে অন্য রকম হতে পারে যেখানে জনগণের দৃশ্যমান কার্যক্ষমতা সবিশেষ গুণে বিভূষিত!

এমনকি অনুকরণাত্মক নাচের প্রাচীন বৈশিষ্ট্য জীবজন্তুর নাচের ভাল্লুক, সিংহ, শিয়াল এবং পাখিদের অঙ্গভঙ্গির অনুকৃতি ক্ল্যাসিল (উচ্চাঙ্গ) নাচের মধ্যদিয়ে অস্তিত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। যদি এই সকল নাচ বিভক্ত হয় তবে প্রত্যেক ধরনের নাচ ফোরাই Phorai ও সিচমাটার Schemalti আধিপত্যের বিষয়বস্তু : (Phorai) ফোরাই হল মানুষের আবেগ ও কর্মকান্ডের চাল-চলনের বহিপ্রকাশ; সিচমাটা (Schemata) একজন ব্যক্তির প্রয়োজনীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের চালচলনের প্রতিফলন।

এইরকম অনেক চাল-চালন কিরোনোমিয়ার (Cheironomi) অথবা “ হাতের সংযত চলনে” আমাদের জন্য রেকর্ড রাখা হয়েছে; মাথায় হাত রাখার অর্থ দুঃখ কষ্ট বুঝায়; সামনের দিকে প্রসারিত উর্ধমুখী হাত দুটা প্রার্থনার তাৎপর্যময়; সামনের দিকে সজোরে নিক্ষেপ তলোয়ারচালক এবং শত শত অনেক কিছু। দৃষ্টি গোচরের গুণাবলী দ্বারা এবং বলিষ্ঠ প্রবৃত্তিতে অনুকরণাত্মক নাচ চর্চায় এইরকম চাল-চলন অবশ্যই যে কোন স্থানে তাদের উপস্থিতি বজায় রাখবে কিন্তু হাত চোখের উপর রাখার দ্বারা যখন দূর হতে কোন কিছু দেখার মূল-শিল্পউপাদান প্রকাশিত হয় আমরা স্মরণ করতে পারি ঠিক সেই একই রকম অঙ্গভঙ্গি হিন্দু ও জাপানী নাচের মধ্যে আছে।

আমরাদের ক্ষণিক দৃষ্টিপাত অনিচ্ছাকৃতভাবে এই তিন উচ্চ কৃষ্টিতে ঘুরে বেড়ায় এবং তা শান্ত হবার না। তারা মনে করে আরো অধিকতর সাদৃশ্যময় কিছু আছে। সম্পূর্ণরূপে অনুকরণাত্মক হতে পারে না সেটা নিশ্চিত হতে অবশ্যই নির্ভর করে জাতি এবং কৃষ্টির উপর।

যাইহোক, হাতের খেলার জন্য কোন জোড়াল পছন্দ অবশ্যই কোন ব্যাপার ছিল না এবং এটার একটা সিষ্টেমে কমিয়ে আনা এখন খুবই অল্প পরিমানে হয়েছে। সেখানে কি লোকজনের সঙ্গে লোকজনের যোগাযোগ আছে? ইন্ডিয়া ও জাপানের মধ্যে যোগাযোগ প্রমাণিত এবং স্বীকৃত।

কিন্তু মনে হয় তারা তাদের বুনানী বুনন করেছে গ্রীস পর্যন্তও। ইন্ডিয়াতে ধর্মীয় প্রথায় হাতের ভাষা একটা প্রাচীন উপলদ্ধি; বেদে এটার প্রয়োজন। যে কেউ ইচ্ছা করলে পুরান গ্রীকদের অঙ্গভঙ্গির চাল-চলনের অবদান অবশ্যই অস্বীকার করতে পারবে না তারা ভূমধ্যসাগরীয় জাতির অধিকারভুক্ত এবং একটা জাতি হিসাবে অদ্ভুত ঐতিহাসিক সাফল্যলাভকারী।

তথাপি, ক্ল্যাসিকূল যুগ মিতব্যায়ী অঙ্গ-ভঙ্গির চাল-চলনে অখ্যাত হয়ে উঠে, শালীনতা দাবী করত যে, উপরের পোষাক পরিচ্ছদ থেকে হাত বাইরে পথে বা রাস্তায় বের হবে না। আলেকজান্ডারের সময়ের পূর্ব পর্যন্ত অঙ্গ-ভঙ্গির চাল-চলন কি মনে হয় স্বাধীন ও অধিক তাৎপর্যময় হয়েছে এবং তারপরেই প্রাচ্য-প্রভাবের দ্বার অধিকতর প্রসারিত হয়েছে।

এশিয়াবিষয়ক নাচের স্রোতধারা এই সময় সবেগে বিকশিত ছিল যা অবশ্যই সমস্ত রাজ্যজুড়ে চিহ্নিত যেটাকে আমরা Komos (কমোস) প্রতিশব্দে সংশ্লিষ্ট করেছি : মেহমান আপ্যায়নে যখন ভোজ শেষে মদ ঢালা হয় এবং পেশাদার গায়িকা, ভেকিবাজ এবং নর্তকী প্রধানত নারী, কক্ষে প্রবশ করে।

অসংখ্য পাত্রের-ছবিতে (অঙ্কিত) এই সকল নাচের বিশদবিবরণ বিবৃত মেয়েরা প্রাচীন উর্বরা প্রথার কুমারী গণ  সকল অবস্থায় ও ভঙ্গিমায় আছে, সকলের জানা নাচসমূহ ধর্মীয় তাৎপর্য বিবর্জিত করে অধঃপতিত হয়েছে অঙ্গ সৌষ্ঠব প্রদর্শনের এবং সুনির্দিষ্ট ভাবে পুরুষের কামনাকে প্ররোচিত করতে।

অবধরনের অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এই একটা বিষয়বস্তু ক্ষীণভাবে দীপ্যমান, কামুক বামনের উদ্ভট বিকৃত ভালবাসা থেকে তরুণী নর্তকীর নগ্ন সৌন্দর্যের উপর প্যারিসের বিজ্ঞসিদ্ধান্ত পর্যন্ত। যদি ভেনাস ক্যালিপাইগাসের মূর্তি সত্য সত্যই মন্দির নর্তকী হয়, আমাদের জন্য বর্ণনায় সে একই রকম ভঙ্গিমা আলচিফ্রনের প্রিয়ার চিঠি পত্রের মধ্যে আছে, নাচুয়েদের স্বর্গীয়তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আর একবার তার সকল অবনতির মধ্যেও অগ্রে বাজে ।

গ্রীসে নাচের ইতিহাসের সেই রকম অল্পই রেকর্ড আছে যেমন সত্যিকারের আবিষ্কারের যতটুকু অন্য কোন কৃষ্টির আছে। এটা যতকিছু বিষয়বস্তু, ধরন, অঙ্গভঙ্গি এবং গঠনশৈলী উপস্থাপন করে তা আদিম মানুষ ও উন্নত এশিয় কৃষ্টি বহু পূর্বেই ধারণা করে ছিল।

আমরা এখানে সেই একই রকম চিন্তাধারাগুলি দেখতে পাই- সূচনা, উর্বরতা বৃদ্ধি, বিবাহ, যুদ্ধ এবং মৃত্যু এবং সেই একই রকম সম্মিলিত চিন্তাধারায়, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে যুদ্ধ-নাচ এবং পরবর্তীকালে উর্বরাশক্তি বৃদ্ধি উৎসব। সেখানে সেই এই রকমের ধরন : বিমূর্ত ও একদিকে অনুকরণাত্মকহীন এবং সুদৃঢ় ও অন্যদিকে অনুকরণাত্মক, জীব-জন্তুর নাচ, ছদ্মবেশধারী ও মুখাভিনয়।

সেখানে সেই একই রকমের। অঙ্গভঙ্গীঃ প্রসারিত অঙ্গভঙ্গী মোচড়ান ও পাক খাওয়ান। সেখানে সেই একই রকমের গঠনশৈলী ঃ ঘের নাচসমূহ একধরনের বা উভয় লিঙ্গের এবং লাইন নাচগুলি যাতে এক সারি টানা হয় পুরুষদিয়ে অপর বিপরীত সারি নারী দিয়ে, গোলক ধাঁধাঁ, শোভাযাত্রা, একক নাচসমূহ এবং খুব পরবর্তীকালের যুগল-নাচ ।

কেই হয়ত স্বাভাবিকভাবে আশা পোষণ করতে পারে যে, খুব স্বাতন্ত্রধর্মী কৃষ্টির অধিকারী ও নাচের প্রতিভাদৃপ্ত বহুল আলোচিত গ্রীকগণ অবশ্যই এই ক্ষেত্রেও তাদের অসাধারণ গুণাবলী উন্মোচিত করবে। সংঘবদ্ধ নাচ ছাড়া তাদের অসাধারণ বৈশিষ্ট্য অন্য কোথাও সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত নাই।

 

ক্ল্যাসিক যুগ গ্রীস

 

যখন প্রাচ্যদেশী লোকের সংঘবদ্ধ নাচে গঠনশৈলীর আর্টে উত্তীর্ণ হয় তারা হর্ষোৎফুল্লতার প্রকৃতি থেকে চূড়ান্ত নির্যাস নিকোষিত করে : নাচুয়ের স্বতন্ত্র মন ও ইচ্ছা নির্বাপিত হয়, ব্যক্তিগত সবকিছু মুছে যায় এবং সে কঠোর নিয়ম-কানুনের মধ্যে চলে যেমন নাচের পুতুল তার অদৃশ্য প্রভুর সুতার টানে নিয়ন্ত্রিত হয়।

কিন্তু যখন গ্রীক ভাস্করগণের মার্বেল পাথরে সংঘবদ্ধ-নাচের মুখাবয়ব মসৃণ করে বাঁকায়ে থাকে, পর্যবেক্ষক প্রশংসা করে আনন্দময় ছন্দ যেন একসূত্রে গাঁথা, ব্যক্তিগত পর্যায় থেকেও অধিক সমন্বিতের মধ্যে পাওয়া যায়, অঙ্গ ভঙ্গি যেটা অন্তঃস্থ প্রবৃত্তিও সামগ্রস্যের সঙ্গে নাচুয়ের নিজের দেহের বিধিবদ্ধতায় প্রতিফলিত করে।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment